গো পূজা বিধি ও প্রচলন – Go Puja

গো পূজা বিধি ও প্রচলন – Go Puja

গো পূজা (Go Puja) ও গোশালা (গোয়ালঘর) পূজার নিয়ম ও প্রচলন: হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে বিশেষ বিশেষ পূজা অর্চনার মধ্যে এটিও একটি পূজা অর্চনা বলা যেতে পারে।

তবে এটি খুবই ছোট আকারে হলেও গ্রামবাংলায় এর গুরুত্ব অপরিসীম। গ্রামবাংলায় প্রায় প্রতিটি ঘরেই গোয়াল ঘর দেখতে পাওয়া যায়।

শ্রী শ্রী শীতলা সপ্তমী ব্রত – Sheetala Saptami Vrat

সেখানে গরু থাকার জন্য সুন্দর করে ঘর তৈরি করা হয় আর আশ্বিন মাসের শুরুতেই এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়। বিশেষ করে শ্রীকৃষ্ণের সাথে জড়িত গরুকে গোমাতা হিসেবে অনেকেই পূজা করে থাকেন এবং গরু যেখানে থাকে সেই গোয়াল ঘরকেও পূজা করা হয়।

গো পূজা ও গোশালা পূজার পদ্ধতি:

তো চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক, এই গো পূজা ও গো শালা পূজার সম্পর্কে:

এই পূজাতে বিশেষ করে যদি কোন গোয়াল ঘরে, কোন গরুর সদ্য বাছুর হয়েছে সেক্ষেত্রে তো আরো বেশি আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে এই পূজাটি।

বনবিবি পূজা সুন্দরবন – Bonbibi Puja

এই পূজার ক্ষেত্রে বাড়ির গৃহিণী অথবা যিনি মহিলা সদস্য রয়েছেন তিনি সকাল থেকে এই পূজার জন্য তোড় জোড় শুরু করে দেন।

সারাদিন গরুগুলোকে বাইরে রাখা হয় এবং গোয়াল ঘর সুন্দর করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে সেখানে ফুল, আম পাতা, কলা গাছ দিয়ে সাজানো হয়। চারিদিকে সুন্দর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে গোবর দিয়ে লেপা হয়।

এরপর সেই গরুর দুধ দিয়ে তৈরি করা ক্ষীর। যা এই পূজার নৈবেদ্য এবং ভোগ হিসেবে অর্পণ করা হয়। গোয়াল ঘরের এক কোণে এই পূজা অনুষ্ঠিত হয়, আর মাটিতে গর্ত করে নতুন উনুন বানিয়ে তার উপরে মাটির হাঁড়িতে এই ক্ষীর তৈরি করতে হয়।

ক্ষীর তৈরি করার পর দেবতাকে উৎসর্গ করার পরে আশেপাশের সকল ছোট্ট শিশুদেরকে ডেকে আনা হয়। তবে শুধুমাত্র শিশুরাই নয় বড়রাও এই পূজায় অংশগ্রহণ করে থাকেন এবং প্রসাদ গ্রহণ করে থাকেন।

বাড়ির উঠানে কচিকাঁচাদের ভিড় জমে যায়। কলাপাতা কেটে তাদেরকে এই ক্ষীরের প্রসাদ পরিবেশন করানো হয়। কেননা বিশ্বাস করা হয় যে শিশুদের মধ্যে ঈশ্বরের বাস রয়েছে।

তবে এক্ষেত্রে বাড়ির গৃহিণী সকল কাজ সম্পন্ন করে থাকেন আর বাড়ির অন্যান্য সদস্যরা এই কাজে তাঁকে সাহায্য করেন। এক আলাদা আনন্দের অনুভূতি দেয় এই পূজা।

গরু গুলোকেও সুন্দরভাবে এই দিন রাখা হয়। গোয়াল ঘরটাও সুন্দর পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে আর যদি নতুন বাছুর থাকে তাহলে তো আর কথাই নেই, গোয়াল ঘরে যেন আলো করে থাকে সেই নতুন বাছুর।

গো পূজা এবং গোশালা পূজার তাৎপর্য:

গৃহস্থ্য বাড়িতে গরু হল এমন একটি গৃহপালিত পশু যা গৃহস্থ বাড়িকে বিশেষ সুবিধা প্রদান করে। যেমন ধরুন দুধ দান করে তাঁদের দুধের চাহিদা মেটায় এর পাশাপাশি গোবর দিয়েও তাঁদের জ্বালানির চাহিদা মেটায়।

এর পাশাপাশি গরু দেবতা হিসেবে পূজিত হয়ে আসছে অনেকদিন আগে থেকেই। চাষের জমিতে গরুকে ব্যবহার করা হয়, কৃষকের একমাত্র সম্বল বলা যেতে পারে এই গরু এবং গোয়ালঘর। গোয়াল ঘরকে তাঁরা বিশেষভাবে আলাদা একটা গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।

প্রতিবছর নতুন বাছুর জন্ম নেওয়ার সাথে সাথে এই গোয়াল ঘর যেমন ভরে ওঠে তেমনি ভরে ওঠে বাড়ির সকল সদস্যদের মন।

দেবতার কাছে প্রার্থনা করা হয় গোয়াল ঘর যেন সর্বদাই ভরা থাকে এবং ঈশ্বরের আশীর্বাদে সেই বাড়িতে কোনরকম বিপদ যেন না থাকে আর সর্বদাই বাড়ির বাচ্চারা দুধে ভাতে থাকে।

স্নান করে পবিত্র হয়ে বাড়ির মা ও বোনেরা এই ব্রত পালন করেন। তবে এক্ষেত্রে অনেকে উপবাস রাখেন আবার অনেকে রাখেন না। তবে নতুন কাপড় পরে সুন্দর ভাবে সেজে এই পূজায় অংশগ্রহণ করতে হয়।

নিজের হাতে তৈরি করতে হয় গরুর দুধ ও চাল দিয়ে ক্ষীর। আর এই পূজার ক্ষীরের প্রসাদ খাওয়ার জন্য অপেক্ষা করে থাকেন অনেক ছোট ছোট বাচ্চা থেকে বড় সকলেই।