কাতি বিহু বা কার্তিক সংক্রান্তি উৎসব – Kati bihu

কাতি বিহু বা কার্তিক সংক্রান্তি উৎসব – Kati bihu

কাতি বিহু (Kati bihu) বা কার্তিক সংক্রান্তি (Kartik Sankranti) উৎসব: হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে এমন অনেক উৎসব অনুষ্ঠান রয়েছে যেগুলি সম্পর্কে অনেকেই হয়তো ধারণা রাখেন বা অনেকেই রাখেন না।

তবে এমন অনেক ছোটখাটো উৎসব যা আনন্দের বন্যা বয়ে নিয়ে আসে, সেগুলি পালন করার মধ্যে গ্রামাঞ্চলের মানুষেরা বেশি আনন্দ উপভোগ করে থাকেন।

Shat Panchami Vrat: ষট পঞ্চমী ব্রত ও পূজা বিধি

ফসল রোপন থেকে ফসল তোলা পর্যন্ত এমন অনেক নিয়ম মেনে তাঁরা উৎসব উদযাপন করেন যে, গ্রাম বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে যেন আনন্দ উপচে পড়ে। বাড়ির সকল সদস্যদের পাশাপাশি ঘরের মা ও বোনেরা এই উৎসবে বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

প্রাচীন কাল থেকে এমন অনেক প্রথা, উৎসব রয়েছে যা প্রথমত প্রথা হলেও আজকে বর্তমান সময়ে এসে সেগুলি এক একটি উৎসবে পরিণত হয়েছে এবং প্রতিবছর সঠিক সময়ে, সঠিক তিথিতে সেই উৎসব পালন করে আনন্দ উদযাপন করা হয়।

প্রাচীনকাল থেকে আশ্বিন মাসের শেষ দিন অসমীয়া সমাজ অর্থাৎ অসমের এই দিনটিকে আলোকের উৎস হিসেবে পালন করা হয়, আর আজও তা বিশেষ বড় উৎসব বলেই মনে করেন তাঁরা।

ভীষ্ম পঞ্চক ব্রত – Bhishma Panchak Vrat

বরাবরের মতো এবারও প্রত্যেক অসমবাসীরা বাড়িতে তুলসীর চারা রোপন করে সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালিয়ে ধন সম্পত্তির দেবী মহা লক্ষ্মী কে স্বাগত জানিয়ে তাঁর কাছে প্রার্থনা জানিয়ে থাকেন। আর আশ্বিন এবং কার্তিক মাসের সংক্রান্তির দিন পালিত হয় কৃষিভিত্তিক উৎসব কাতি বিহু অর্থাৎ কার্তিক সংক্রান্তি।

কাতি বিহু উদযাপন:

এই সময় সকালে বাড়ির গৃহস্থ গৃহিণীরা পবিত্র হয়ে স্নান সেরে পবিত্র শুদ্ধ বস্ত্র পরিধান করে তুলসী চারা রোপন করে সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালিয়ে আনন্দে এবং উৎসবের আমেজে মাতোয়ারা হয়ে ওঠেন।

যাঁদের কৃষি ক্ষেত রয়েছে তাঁদের ক্ষেতের মধ্যবর্তী একটি এলাকা পরিষ্কার করে সেখানে বেদী তৈরি করে তুলসী চারা রোপন করেন অনেকেই।

ধানে ভরা খেতের মাঝখানে কিছুটা জায়গা পরিষ্কার করে সেখানে তুলসী গাছ রোপন করে এবং বাড়িতে তুলসী চারা রোপন করে সেখানে তুলসী গাছের তলায় পান, সুপারি, পিঠে, পুলির নৈবেদ্য, নারকেল, সহকারে প্রদীপ জ্বালিয়ে লক্ষ্মী কে বরণ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন বাড়ির মা ও বোনেরা।

অসমের তিনটি বিহুর মধ্যে কাতি বিহু হল অন্যতম বিহু উৎসব (Bihu Utsav)। এই উৎসবের মধ্যে দিয়ে কৃষিজীবী অসমীয়ারা লক্ষ্মীকে ঘরে তোলেন বলে মনে করা হয়। এর পাশাপাশি এই সময় কৃষিজীবীরা তাঁদের ধানের গোলা উন্মুক্ত করে রাখেন এবং দেবী লক্ষ্মীকে সেখানে স্বাগত জানান।

এ ছাড়াও নাচ গানের মধ্যে দিয়ে এই উৎসব পালন করে থাকেন গ্রামের সকল নারী ও পুরুষ। এই উৎসব উদযাপনটি ধানের ফসলের স্থানান্তর এবং নতুন ফসলের ঋতু শুরুর সূচনা করে। সেবা, তপস্যা এবং একটি উন্নত ভবিষ্যতের আকাঙ্ক্ষার একটি পর্যবেক্ষণ হলো কাতি বিহু উৎসব।

যদিও ছুটির দিন চলে সমগ্র আসাম রাজ্য জুড়ে, প্রতিটি অসমীয়াকে উপজাতি নিজস্ব রীতিনীতি এবং এই উৎসবের আনন্দ উপভোগ করার জন্য ছাড় দেওয়া হয়।

সম্পূর্ণ কার্তিক মাস জুড়ে এই অনুষ্ঠানটির প্রক্রিয়া চলতে থাকে এবং বাড়ির বিভিন্ন অংশ আলো দিয়ে আলোকিত করা হয়। উঠোনে তুলসী গাছের কাছে সব সময় অর্থাৎ প্রতিদিন সন্ধ্যায় প্রদীপ জ্বালানোর প্রথা রয়েছে।