বিবাহ পঞ্চমী ব্রত বিধি ও মাহাত্ম্য | Vivah Panchami Vrat Katha & Significance

বিবাহ পঞ্চমী ব্রত – Vivah Panchami Vrat

বিবাহ পঞ্চমী ব্রত (Vivah Panchami Vrat: রাম সীতার বিবাহ এবং তাঁদের ভালবাসার এই যে বন্ধন সম্পর্কে জানেন না এমন সনাতন ধর্মাবলম্বী খুবই কম রয়েছেন। তাঁদের বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল যেদিন সেই তিথিটিকে স্মরণ করে বিবাহ পঞ্চমী ব্রত পালন করা হয়ে থাকে। যাঁদের বিবাহ স্থির হয়ে রয়েছে এবং যাঁদের সবেমাত্র বিবাহ হয়েছে এবং বিবাহিত নারী-পুরুষদের ক্ষেত্রে এই বিবাহ পঞ্চমী ব্রত খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

হিন্দু ধর্মে বিবাহ পঞ্চমী তিথিতে বিশেষ মাহাত্ম্যপূর্ণ। বৈদিক পঞ্জিকা অনুসারে প্রতিবছর মার্কশিরা মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে এই বিবাহ পঞ্চমী তিথিটি পড়ে। রামচরিতমানসের তুলসীদাস শ্রীরামচন্দ্র সীতা দেবীর বিবাহ গাঁথা বর্ণনা করেছেন।

সন্তোষী মায়ের পূজার বিধি – Santoshi Puja Vidhi

বুঝতে সুবিধা হওয়ার জন্য ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ডিসেম্বর অথবা জানুয়ারি মাসে প্রতিবছর এই বিবাহ পঞ্চমী ব্রত পালন করার শুভ দিনটি পড়ে। আর বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে অগ্রহায়ণ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে বিবাহ পঞ্চমী ব্রত পালন করা হয়।

বিবাহ পঞ্চমী ব্রত পালনের পৌরাণিক কথা:

পৌরাণিক কথা অথবা পুরান অনুসারে জানা যায় এই শুভ দিনে বর্তমান নেপালের জনকপুরে রাজা জনকের কন্যা সীতার স্বয়ংবর সভায় উপস্থিত হয়েছিলেন শ্রী রামচন্দ্র এবং সীতাকে বিয়ে করার জন্য যে শর্ত ছিল সেটা হল হরধনু ভঙ্গ করা। তাই সমস্ত রাজকুমারদের মধ্যে শ্রী রামচন্দ্র এই হরধনু ভঙ্গ করে এই শর্ত পূরণ করেন এবং সীতাকে বিবাহ করেন।

ভারত ও নেপালের রাম সীতা মন্দির গুলিতে বিবাহ পঞ্চমী ব্রত খুবই জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালন করা হয়। রামের জন্মভূমি অযোধ্যায় এই দিনটি খুবই ধুমধাম এর সাথে পালিত হয়। বিহারেও বিভিন্ন জায়গায় বিবাহ পঞ্চমী ব্রত পালন করা হয়ে থাকে যা চোখে পড়ার মতো।

সিদ্ধিবিনায়ক চতুর্থী ব্রত (গণেশ চতুর্থী ব্রত) – Ganesh Chaturthi

রাম সীতার মন্ত্র ও অন্য বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণ করে শ্রীরামচন্দ্র ও সীতাদেবীর বিবাহ বার্ষিকী পালন করে থাকেন সকল ভক্তরা। শুভ সময়ে রাম সীতার পূজো করে তাঁদের বিবাহ পঞ্চমীর এই ব্রত পালন করলে শুভ যোগে মা সীতার পূজো করলে সুখ ও সৌভাগ্য লাভ করা সম্ভব হয়।

বিবাহ পঞ্চমী ব্রত পালনে কি করবেন?

তো চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক বিবাহ পঞ্চমী ব্রত পালনে কি করবেন:

বিবাহ পঞ্চমীতে ভগবান রাম এবং মা সীতার বিবাহের বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান সম্পাদন করার রীতি প্রচলিত রয়েছে। প্রথমে একটি চৌকিতে ভগবান রাম এবং মা সীতার মূর্তি স্থাপন করুন, বিবাহ পঞ্চমীতে উপবাস রাখাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং উপবাস থেকে এই ব্রত পালনের সংকল্প গ্রহণ করুন। তাছাড়া এই শুভদিনে অবিবাহিত মেয়েদের জানকি মন্ত্র পাঠ করা উচিত।

যে সমস্ত মেয়েদের বিয়েতে দেরি হচ্ছে অথবা তাঁদের বিয়েতে কোন ধরনের বাধা সৃষ্টি হচ্ছে তাঁদের উচিত ভালো স্বামী পেতে জানকি মন্ত্র জপ করা। বিবাহ পঞ্চমীর দিন এই জানকি মন্ত্র ১০৮ বার জপ করতে বলা হয়েছে।

  • বিবাহ পঞ্চমীতে ভোরবেলা ঘুম থেকে উঠে স্নান সেরে পরিস্কার বস্ত্র পরিধান করার রীতি প্রচলিত রয়েছে।
  • এরপর রাম ও সীতার মূর্তিতে নতুন বস্ত্র দিতে হয়। রামের মূর্তিতে হলুদ বস্ত্র এবং সীতার মূর্তিতে লাল বস্ত্র দেওয়ার রীতি প্রচলিত রয়েছে।
  • এছাড়া ফুল, ফল, নৈবেদ্য, ভোগ অর্পণ করতে হয়। তার পাশাপাশি ধূপ, ধূনা এবং ঘি এর প্রদীপ জ্বালিয়ে আরতী করার বিধান রয়েছে।
  • রাম সীতার মূর্তিতে সুন্দর ফুলের মালা পরিয়ে দিতে হবে।
  • এরপর ভোগ ও নৈবেদ্য অর্পণ করে রাম সীতার বিবাহ বার্ষিকী অথবা বিবাহ পঞ্চমীর এই শুভ তিথি টি উদযাপন করার রীতি প্রচলিত রয়েছে।

✨ বিশেষ করে রাম মন্দির গুলিতে এই উৎসবটি খুবই বড় আকারে দেখা যায়। মন্দির গুলিকে সুন্দর করে সাজানো হয় ফুল ও ছোট ছোট লাইট দিয়ে। যা দেখতে খুবই মনোরম হয় এবং আশেপাশের পরিবেশকে আরো বেশি সুন্দর করে তোলে। বিবাহ পঞ্চমীর এই উৎসব কে ঘিরে অনেক জায়গায় অনেক বড় আকারে মেলা বসে। সেখানে বহু দূর দূরান্তর থেকে আগত ভক্তগণ এবং দর্শনার্থীরা এসে ভিড় জমান।