সন্তোষী মায়ের পূজার বিধি – Santoshi Puja Vidhi
সন্তোষী মায়ের পূজার বিধি (Santoshi Puja Vidhi): ছোটবেলা থেকে বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠানের মধ্যে পরিচিত হওয়ার পাশাপাশি শুক্রবারে টক খাওয়া যায় না এই বিষয়টার সাথে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিশুরা বিশেষভাবে পরিচিত।
কেন না এই শুক্রবারে সন্তোষী মায়ের পূজা করা হয় আর এই পূজাতে যেমন টক জাতীয় কোন ফলের স্থান নেই তেমনি সংসারের মঙ্গল কামনায় এই দিনটিতে টক খাওয়াও নিষেধ রয়েছে। বলা যেতে পারে সপ্তাহের প্রতিটি দিন কোন না কোন দেব-দেবীকে উৎসর্গ করা হয়, তেমনি শুক্রবারটা সন্তোষী মায়ের নামে উৎসর্গ করা হয়, অর্থাৎ এই দিনে সন্তোষী মায়ের পূজা করা হয়।
কার্তিক ব্রত (Kartik Vrat) (দামোদর মাসের ব্রত) পালনের নিয়মউত্তর ভারতে নেপালের মহিলারা সন্তোষী মা কে প্রধানত এই দেবীর পূজা করে থাকেন। তবে এই ব্রত এখন অনেকেই পালন করেন এবং বাংলার বিভিন্ন জায়গায় এবং বাঙালি ঘরে ঘরেও সন্তোষী মায়ের পূজা হয়ে থাকে। সন্তোষী মায়ের ব্রত (Santoshi Maa Vrat) পালন করলে জীবনে অনেক দুঃখ, কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়া যায় বলে ধর্মীয় বিশ্বাস অনুসারে বিশ্বাস করেন ভক্তরা।
সন্তোষী মায়ের পূজার পৌরাণিক কাহিনী:
পৌরাণিক কাহিনী অনুসারে মা সন্তোষী হলেন গণেশের কন্যা, একবার গণেশের দুই ছেলে শুভ আর লাভের ইচ্ছে হলো বোনের হাতে রাখি পরবেন। কিন্তু গনেশের কোন কন্যা ছিল না, পুত্রদের মনোবাসনা পূর্ণ করতে এক কন্যার সৃষ্টি করলেন গণেশ। তার হাতে রাখি পড়লেন শুভ আর লাভ, দাদাদের মনের ইচ্ছে পূর্ণ করলেন বলে তার নাম হলো সন্তোষী।
এই দেবী পূজিতা হন দুর্গার অবতার রূপেও। ভক্তের মনোকামনা পূর্ণ করতে তিনি সন্তুষ্টি প্রদান করেন বলেই তাকে অন্য দিক থেকেও সন্তোষী মাতা বলে অনেকেই জেনে থাকবেন। দেবীর হাতে থাকে তরোয়াল, চালের সোনালী পাত্র এবং ত্রিশূল।
শ্রী শ্রী মনসা পূজা – Manasa Pujaসন্তোষী মায়ের রূপ:
দেবীর জন্ম হয়েছিল শুক্রবার পূর্ণিমা তিথিতে। সেই কারণে এই দিনেই দেবীর আরাধনা করা হয়। সন্তোষী মায়ের পুজার জন্য শুক্রবার দিনটি সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ বলে বিবেচনা করা হয়, তিনি চতুর্ভূজা এবং রক্ত বস্ত্র পরিহিতা।
চারটি হাতের মধ্যে দুটিতে রয়েছে ত্রিশূল ও তলোয়ার ধারণ করে রয়েছেন বাকি দুটি হাতে ভরাভয় এবং সংহার মুদ্রা ধারণ করেছেন। এই দেবীর ত্রিশূলের পাত তিনটি গুন তথা সত্ত্ব, রজঃ, তম এর প্রতীক আর তলোয়ার টি জ্ঞানের প্রতীক।
সন্তোষী মায়ের পূজার প্রয়োজনীয় উপকরণ:
- দুর্বা ঘাস,
- ফুল,
- বেলপাতা,
- ধান,
- ছোলা,
- গুড়,
- বাতাশা,
- তবে টক জাতীয় যেকোনো ফল বা দ্রব্য, কোন বস্তু নিষিদ্ধ,
- ধুপ,
- ধূনা,
- প্রদীপ,
- ঘি,
- শঙ্খ,
- ঘন্টা,
- বট পাতা / পাকুড় পাতা /কাঁঠাল পাতা,
- আলু,
- দুধ,
- মিষ্টি ইত্যাদি।
সন্তোষী দেবীর পূজার বিধান:
- সন্তোষী মায়ের পূজা তে কোনরকম টক বস্তু বা আমিষ দ্রব্য প্রদান করা যায় না।
- এই পূজোর সময় সর্ষের তেল ব্যবহার করা যায় না, ঘি এর প্রয়োজন হয়।
- শুক্রবারে স্নান সেরে পরিষ্কার কাপড়ে মায়ের পূজা করতে হয়।
- ঘট স্থাপন করতে হয়, ঘটের উপরে বট / কাঁঠাল / পাকুড়ের পাতা দিতে হয়।
- আমের পল্লব দিতে নেই, সব রকম ফুল চলে, তবে বেলপাতা অবশ্যই প্রয়োজন পড়বে।
- আর ওই যে আগেই বললাম টক জাতীয় কোন ফল চলবে না।
- ঘটের মধ্যে গোটা ফল হিসেবে কলা দিতে হয়।
- এরপর আচমন, বিষ্ণু স্মরণ, আসন শুদ্ধি, সূর্য অর্ঘ্য, সংকল্প করে গুরুদেব ও পঞ্চ দেবতার পূজা করে মা সন্তোষীর পূজা করতে হয়।
- গোটা ফল হিসেবে কলা দেওয়া যায়। শুক্রবার যিনি ব্রত পালন করবেন তাকে সারাদিন উপবাস থাকতে হয়।
- এছাড়া দুধ, ছোলা দিয়ে আলু দিয়ে ভেজে মিষ্টি ফল জল গ্রহণ করতে পারবেন।
- ব্রত উদযাপনের দিন ৭ জন বালককে ভোজন করাতে হয়।
- ছানা থেকে তৈরি কোন মিষ্টি সন্তোষী মাকে দেওয়া যায় না।
- উদযাপনের দিন দেবীর কাছে একটি নারকেল ফাটিয়ে সেই জল মায়ের চরণে দেওয়ার বিধি রয়েছে।
- নারকেল দেবীর সামনে এক আঘাতে ফাটাতে হয়।
- দেবীকে ফুল, ধুপ এবং একবাটি কাঁচা চিনি এবং ভাজা ছোলা অথবা গুড় চানা নিবেদন করা উচিত।
- ঘটে সিঁদুর, ঘি মিশিয়ে দিতে হয়। এইভাবে সন্তোষী মায়ের ব্রত পালন করলে তার কৃপায় মানব জীবনে সুখ, শান্তি ফিরে আসে।