গীতা জয়ন্তী উৎসব পালন – Gita Jayanti
গীতা জয়ন্তী (Gita Jayanti): শ্রীমৎ ভাগবত গীতা (Shrimad Bhagavad Gita) যা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে এক আবেগ। এটি পাঠ করলে অনেক পাপ ক্ষয় হয় এবং এখানে অনেক উপদেশ যা শ্রীকৃষ্ণ দিয়েছেন, তিনি সকলের ভালো চেয়ে এবং জীবনের মর্ম বুঝিয়েছেন, এই শ্রীমৎ ভাগবত গীতা (Shrimad Bhagavad Gita) অনেকখানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সকল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য।
কাহিনী অনুসারে কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরেই ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তার প্রিয় ভক্ত অর্জুনকে জীবনের সঠিক পাঠের বাণী প্রদান করেছেন। সেই বাণী শ্লোক আকারে বর্ণিত রয়েছে শ্রীমৎ ভাগবত গীতায়।
করম পূজা – Karam Pujaশ্রীমৎ ভাগবত গীতা:
সাধারণত মোট ১৮ টি অধ্যায় রয়েছে গীতায়, আর রয়েছে ৭০০ টি শ্লোক। গীতার অর্থ হলো একজন মানুষের সমস্ত জীবনের প্রতিটি দিক সুন্দরভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যা একজন মানুষকে তার জীবনে চলতে অনেকখানি সহযোগিতা করবে।
সকল হিন্দুদের কাছে সবচেয়ে পবিত্র ও পৌরাণিক ধর্মগ্রন্থ হল এই গীতা। এই গীতাকে অধিকাংশ মানুষ পাঠ করতে এবং শ্রবণ করতে ভালোবাসেন। মনে করা হয় এবং বিশ্বাস করা হয় গীতা পাঠ ও শ্রবনের জন্য একজন মানুষের সম্পূর্ণ জীবনটাই পাল্টে যেতে পারে।
গীতা জয়ন্তী:
প্রতিবছর মার্গশীর্ষ মাসের শুক্ল পক্ষের একাদশী তিথিতে গীতা জয়ন্তী উৎসব পালন করা হয়। এই দিন দেশের সমস্ত জায়গায় ধর্মগ্রন্থ গীতা পাঠ করার নিয়ম রয়েছে এবং যাঁরা পাঠ করতে পারেন না তাঁরা সমবেত হয়ে এই গীতা পাঠ শ্রবন করেন।
Kamakhya Puja: কামাখ্যা দেবীর পূজা বিধি ও অম্বুবাচী যাত্রাএই শুভ দিনে দেশের সমস্ত জায়গায় বিভিন্ন মন্দিরে মন্দিরে হোম যজ্ঞ এবং শ্রীকৃষ্ণের পূজার পাশাপাশি গীতা পাঠ করা হয়। শুধুমাত্র গীতা পাঠ করা অথবা পূজা করা হয় না, তার সাথে সাথে শ্রীকৃষ্ণকে যেমন পূজা করা হয় তেমনি বেদব্যাসকেও পূজা করা হয়ে থাকে।
এছাড়া এই দিনে পূর্বপুরুষদের মোক্ষ লাভের জন্য শুভ বলে গণনা করা হয়। এই দিনে শ্রীকৃষ্ণের পাশাপাশি বিষ্ণুর পূজা করা উচিত যা সকল দুঃখ কষ্ট দূর করে সংসারে সুখ, শান্তি, সমৃদ্ধি বজায় রাখার পাশাপাশি আপনাকে পরপারে সুখে রাখবে।
গীতা জয়ন্তি কিভাবে পালন করবেন?
গীতা জয়ন্তীর এই শুভদিনে সমস্ত ভক্তরা শ্রীমৎ ভাগবত গীতা (Shrimad Bhagavad Gita) পাঠ করেন অথবা শ্রবণ করেন। এই গীতার ৭০০ টি শ্লোক যা সকলকে জ্ঞান প্রদান করে। এর মাধ্যমে মানুষ অনেক কিছু শিখতে পারে। এটি ধর্মীয় এবং আধ্যাত্মিক জ্ঞান দেয়, যা মানুষের বেঁচে থাকতে এবং যেকোন বিপদ থেকে রক্ষা পেতে সহযোগিতা করে।
এটি কর্ম, ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান দেয় এবং এর মাধ্যমে মানুষ মোক্ষ লাভ করে। আর সেই কারণে এই গীতা জয়ন্তির দিনটি “মোক্ষদা একাদশী” নামেও পরিচিত। এই শুভ দিন উপলক্ষে সকল ভক্তগণ ভজন, কীর্তন করেন এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে প্রার্থনা করেন।
গীতা জয়ন্তী পূজার আচার অনুষ্ঠান:
১) খুব সকালে অর্থাৎ ব্রহ্ম মুহূর্তে ঘুম থেকে উঠে পবিত্র স্নান সম্পন্ন করুন এবং তার সাথে সাথে পরিষ্কার কাপড় পরে নিজেকে শুদ্ধ করে এই পূজার সংকল্প গ্রহণ করুন।
২) এই দিনে উপবাস রাখলে মানুষের মন পবিত্র হয় এবং শরীর সুস্থ থাকে, এছাড়াও ব্যক্তি পাপ থেকে মুক্তি পায় তার পাশাপাশি জীবনে সুখ শান্তি অনুভব করে।
৩) পূজার ঘর পরিষ্কার করুন এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মূর্তি রাখুন, শ্রীমৎ ভাগবত গীতাও সাজিয়ে রাখুন পাঠ করার জন্য।
৪) এরপর দেশি ঘি দিয়ে একটি প্রদীপ জ্বালান এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের গলায় ফুলের মালা অর্পণ করুন।
৫) তারপরে ভগবানকে মিষ্টি নিবেদন করুন অবশ্যই তুলসী পাতা দিয়ে। তার সাথে সাথে শ্রী কৃষ্ণের পছন্দের ফুল অর্পণ করুন আর প্রার্থনা করুন, আর ধন্যবাদ জানান এত সুন্দর জ্ঞানে ভরা গীতা উপহার দেওয়ার জন্য।
৬) এরপর শ্রীমৎ ভাগবত গীতা পাঠ করতে হবে এর প্রতিটি শ্লোক আপনাকে সুন্দর ভাবে উচ্চারণ করে পাঠ করতে হবে, আর যাঁরা পাঠ করতে পারেন না তাঁরা অবশ্যই ভক্তি ও নিষ্ঠার সাথে শ্রবণ করবেন।
৭) অনেক ভক্তরা এই শুভদিনে আশীর্বাদ পেতে ভগবান কৃষ্ণ মন্দিরে যান, সেখানে গিয়েও শ্রীকৃষ্ণের পূজার পাশাপাশি এই শুভ দিনের আনন্দ উপভোগ করেন।
৮) এর পাশাপাশি এই দিনে পূর্বপুরুষদের নামে তর্পণ নিবেদন করলে ভক্তদের পূর্বপুরুষরাও মোক্ষ লাভ করবেন।