Worldwide Bengali Panjika

কল্কি অবতার আবির্ভাব – Kalki avatar Appearance


শ্রী কল্কি অবতার আবির্ভাব (Kalki avatar Appearance): ব্রহ্মা-বিষ্ণু-মহেশ্বর এই ত্রিদেব সম্পর্কে সকলেই কম বেশি জানবেন অর্থাৎ যাঁরা সনাতন ধর্মের মানুষ রয়েছেন তাঁরা বিশ্বাস করেন যে বিষ্ণুর অন্যতম অবতার কল্কি হলেন একমাত্র যাঁর জন্মের আগেই জন্ম দিবস পালিত হয়। এক কথায় বিষ্ণুর দশম এবং অন্তিম অবতার হলেন কল্কি অবতার। কলিযুগের শেষে কল্কি দেবের আবির্ভাব হবে, পুরানে এমনটাই বর্ণিত রয়েছে।

WhatsApp প্রতিদিনের পঞ্জিকা নিজের হোয়াটসঅ্যাপে পেতে এখানে দেখুন (একদম ফ্রী)

কলিযুগের শেষে যখন পাপের ভারে পৃথিবী আর কোনোভাবেই ভার সহ্য করতে পারবেনা তখন সমস্ত অধর্মের বিনাশ করতে তিনি নতুন ভাবে ধর্ম প্রতিষ্ঠা করবেন। গীতা ও কল্কি পুরাণ অনুসারে কলিযুগের শেষ ও সত্যযুগ শুরুর সন্ধিক্ষণে আবির্ভূত হবেন কল্কি অবতার। আর এই কল্কিদেব কলিযুগের বিনাশ ঘটিয়ে সত্য যুগের সূচনা করবেন এমনটাই বিশ্বাস রয়েছে।

কল্কি অবতার নিয়ে বিশেষ কিছু তথ্য:

১) পৃথিবীতে যখন সমস্ত জায়গায় পাপ ভরে যাবে সেই সময় কল্কি অবতার আবির্ভূত হয়ে মানুষের মনে আবার ভক্তিভাব জাগিয়ে তুলতে অধর্মের বিনাশ করবেন। তাঁর কথা মেনেই মানুষ সত্যের পথে চলা শুরু করবে, গীতার দ্বিতীয় অধ্যায়ে কল্কি অবতার প্রসঙ্গে বিস্তারিত বর্ণনা করা হয়েছে।

২) কল্কিপুরাণ অনুসারে উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদে আবির্ভূত হবেন কল্কি অবতার। তাঁর অন্য ভাইয়েরাও হবেন বিভিন্ন দেবতার এক একটি রূপ। সকলেই ধর্মের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার জন্য কল্কিকে সাহায্য করবেন। কল্কির বাবা হবেন বিষ্ণুর একজন পরম ভক্ত এবং সব দেব ও পুরাণে সর্বজ্ঞ, তাঁর বাবার নাম হবে বিষ্ণুযশ ও মায়ের নাম হবে সুমতি।

৩) বিষ্ণুর অন্য একটি অবতার রামের মতো কল্কিরাও হবেন চার ভাই, এদের মধ্যে তিন ভাইয়ের নাম হবে সুমন্ত, প্রাজ্ঞ ও কবি। কল্কির গুরু হবেন বিষ্ণুর আরো এক অবতার পরশুরাম, পরশুরাম হলেন অমর। আর এই পরশুরামের নির্দেশেই শিবের আরাধনা করে স্বর্গীয় শক্তি লাভ করবেন কল্কিদেব।

৪) কল্কির বাহন হবে একটি সাদা রঙের ঘোড়া, এই ঘোড়ার নাম হবে দেবদত্ত, আর এই ঘোড়ার পিঠে চেপেই কিন্তু পাপীদের বিনাশ করতে কল্কি দেব বের হবেন। কল্কি দেবের আবির্ভাব তিথিতে বিষ্ণুর আরাধনার রীতি রয়েছে। পাশাপাশি এদিন দরিদ্রদের খাবার দান করার কথাও বলা হয়েছে।

৫) কল্কি দেবের দুইজন স্ত্রী থাকবেন, একজন স্ত্রী লক্ষ্মীর রূপ পদ্মা এবং অন্য একটি স্ত্রী বৈষ্ণবী শক্তিরূপা রমা। কল্কি দেবের চার ছেলে হবে এদের নাম হবে জয়, বিজয়, মেঘওয়াল ও বালাহক।

৬) বিষ্ণু মন্দিরে কল্কি দ্বাদশীতে বিশেষ পূজার আয়োজন করা হয়, মনে করা হয় কল্কি দ্বাদশীতে নারায়ণের পুজো করলে জীবনের সমস্ত বাধা বিপদ কেটে যায়। কল্কি দ্বাদশীতে নিজের প্রিয় খাদ্য উৎসর্গ করার রীতি প্রচলিত আছে বলে জানা যায়। কল্কি দেবের ছবি অথবা মূর্তি না থাকলে বিষ্ণুর ছবি অথবা মূর্তির সামনে বসে পূজা করলে একই রকম শুভ ফল লাভ করবেন।

কল্কি দেবের পূজা:

তো চলুন তাহলে জেনে নেওয়া যাক, কল্কি দ্বাদশীতে কিভাবে কল্কি দেবের পূজা করবেন:

  • কল্কি দ্বাদশী তে খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে স্নান করুন, এরপর পরিষ্কার বস্ত্র পরে নিজেকে পরিশুদ্ধ করে তুলুন এবং হালকা রঙের পোশাক পরার চেষ্টা করুন।
  • এরপর নারায়ন কে কুমকুমের তিলক পরিয়ে দিন, আর অক্ষত নিবেদন করুন। তবে এখানে একটি কথা মনে রাখতে হবে যে, শ্রীকৃষ্ণকে ভুলেও কিন্তু ভাঙা চাল অর্পণ করা যাবে না।
  • এরপর ফুল, ফল ও আবির নিবেদন করতে হবে নারায়ণকে, তারপরে জ্বালিয়ে দিতে হবে ঘি এর প্রদীপ বিষ্ণুর সামনে।
  • এরপর এই ফল আর মিষ্টি প্রসাদ হিসেবে সবার মধ্যে বিতরণ করে দিন। সব সমস্যা মেটানোর জন্য বিষ্ণুর কাছে প্রার্থনা করুন ভক্তি ও নিষ্ঠা ভরে।
  • এই শুভদিনে দরিদ্রদের খাদ্য দান করলে নারায়ণ আপনার উপরে সন্তুষ্ট হবেন এমনটাই উল্লেখ রয়েছে। তাই আপনার সাধ্যমত গরিবদের মধ্যে কিছু দান করতে পারেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

error: Content is protected !!