অভয়া মাতার পূজা – Abhaya Mata Puja

অভয়া মাতার পূজা – Abhaya Mata Puja

অভয়া মাতার পূজা (Abhaya Mata Puja): হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎস হলো দুর্গাপূজা (Durga Puja)। তবে দুর্গাপূজায় আমরা যেমন খুব আনন্দ উপভোগ করে থাকি সে ক্ষেত্রে কিন্তু দুর্গা দেবী (Devi Durga) বিভিন্ন রূপে আবার ফিরে ফিরে এই মর্ত্যে এসে পূজা পান।

তেমনি একটি রূপ হল অভয়া রূপ। প্রায় প্রাচীন শতাব্দীর এক চালে সিংহ ও অসুর বিহীন দুই হাতে মা দুর্গার পূজার তিথিতে চার দিন ধরে দুর্গার রূপে পূজা করা হয় এই অভয়া মায়ের (Abhaya Maa)।

পুষ্কর স্নান ও পূজা বিধি | Pushkar Snan Puja Vidhi, উপকরণ ও ব্রতকথা

মহিষাসুরমর্দিনী রূপেই নন, দত্ত বাড়ির দুর্গাপূজাতেও এই অভয়া রূপে মা দুর্গা পুজিতা হন। ১৮৬২ সালে সাগরলাল দত্ত নামের এক ব্যাক্তি এই পূজা শুরু করেন। এই পূজা আজও হয়ে আসছে চুঁচুড়া দত্ত বাড়িতে।

অর্থাৎ অভয়া মায়ের পূজা করা হয় ব্যবসায়ী পরিবারে অথবা বণিক পরিবারে। এক হাতে মা আশীর্বাদ দেন অন্য হাতে দান করেন। অসুর বিহীন মায়ের এখানে দুটি হাত, অভিনব এই পূজার মাহাত্ম্য আজও বিরাজমান রয়েছে।

অভয়া মায়ের পূজার পৌরাণিক কাহিনী:

যেহেতু তিনি ব্যবসায়ী পরিবারে পুজিতা হয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে জানা যায় সাগর লাল দত্ত নামের এক ব্যাক্তি ছিলেন খুব বড় ব্যবসায়ী। ব্যবসার কাজে তিনি কলকাতায় থাকতেন বেশিরভাগ সময়।

রাধাষ্টমী ব্রত ও পূজা বিধি – Radhastami Vrat

সেখানেও তাঁর বাড়িঘর ছিল। সেই ব্যক্তির স্ত্রী জহরমনি দাসী চুঁচুড়ায় থাকতেন। শোনা যায় একবার দত্ত বাড়িতে এক সন্ন্যাসী এসেছিলেন।

ব্যবসায়ীর স্ত্রী জহরমনি সেই সন্ন্যাসীকে খুব সেবা যত্ন করতে থাকেন। চলে যাওয়ার সময় সন্ন্যাসী সাগর লালের স্ত্রীর সেবা যত্নে সন্তুষ্ট হয়ে একটি অষ্টধাতুর অভয়া মূর্তি দিয়ে যান তাঁকে।

সেই মূর্তি দিয়ে চুঁচুড়া দত্ত বাড়িতে প্রতিদিন পূজা হতে থাকে। অষ্টধাতুর অভয়া মূর্তি পূজা করতে করতেই সাগর লালের স্ত্রী একদিন স্বপ্নে আদেশ পেলেন দেবী তাঁকে অভয়া রুপে মাটির প্রতিমা গড়ে পূজা করার নির্দেশ দিচ্ছেন।

তারপরেই দত্ত বাড়িতে অভয়া রূপে মা দুর্গার পূজার (Durga Puja) প্রচলন শুরু হয়। আর জানা যায় যে, এই পূজা করার পরে থেকেই সাগর লাল দত্তের পাটের ব্যবসা আরো দিন দিন শ্রী বৃদ্ধি হতে থাকে।

প্রচুর সম্পত্তির মালিক হয়ে যান তিনি। মায়ের কৃপায় তিনি এতটাই অর্থবান হয়ে ওঠেন যে একটা সময় তাঁর কাছ থেকে ব্রিটিশ সরকারও ঋণ নেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকতো। এছাড়া এই ব্যবসায়ীর নামে একটি হাসপাতালও রয়েছে কামারহাটিতে।

অভয়া মাতার পূজা:

এই পূজা যখন শুরু হয়েছিল তখন থেকেই বৈষ্ণব মতে পূজা পেয়ে থাকেন মা। ১২ মাসে রাধাকান্ত মা অভয়ারণ্যের পূজা হয় তিনি এই সময় মা দুর্গার রূপে পূজা পান। প্রাচীনকালে দত্ত বাড়ির দালানে প্রতিমা তৈরি করা হতো, এখন কয়েক বছর ধরে ঠাকুর তৈরি করা হয় পটুয়াপাড়ায়।

দেবী দুর্গার দুটি হাত তা তো আমরা আগেই জানলাম, সেই হাতে কোন অস্ত্র থাকে না, পরিবারের মঙ্গল কামনায় তিনি শুধু এক হাত তুলে আশীর্বাদ করেন আর এক হাতে দান করেন। দত্তবাড়িতে কাঠামো পুজো হয় রথের দিন।

মহালয়ার আগের দিন হয় দেবীর চক্ষুদান আর মহালয়ার দিন থেকেই এই পূজা শুরু হয়ে যায়। যেহেতু এই পূজা বৈষ্ণব মতে হয় তাই কোন বলি প্রথা নেই।

অষ্টমীর দিন ধুনো পোড়ানো দেখতে এখনো পর্যন্ত এখানে বহু ভক্তদের ভিড় জমে ওঠে ঠাকুরদালানে। এছাড়া দশমীর দিন বিসর্জনের সময় কাঁধে করে এক চালের প্রতিমা নিয়ে যাওয়া হয় চুঁচুড়ার দত্তঘাটে।

সাধারণ কালীপূজায় যে উপকরণগুলি প্রয়োজন পড়ে সেগুলি সব এই পূজায় প্রয়োজন পড়ে না বললেই চলে, যেহেতু বৈষ্ণব মতে এখানে পূজা করা হয়, এখানে দেবীর রূপ খুবই শান্ত, তাই সামান্য ফুল ও ফল নৈবেদ্য হিসেবে অর্পণ করেই মায়ের পূজা সম্পন্ন করতে হয়।

তাছাড়া নিরামিষ খিচুড়ি থেকে শুরু করে ভাজা, লুচি, এগুলি তো রয়েছেই। যাঁরা ব্যবসায়ী রয়েছেন, তাঁরা নিজেদের ব্যবসার উন্নতি সাধনের জন্য এই পূজায় অংশগ্রহণ করে থাকেন অথবা অনেক ব্যবসায়ী পরিবারে আজও পর্যন্ত অভয়া দেবীর এই মূর্তির পূজা সম্পন্ন করা হয়।